বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, যার ভিত্তি হবে পারস্পরিক স্বার্থ, সহযোগিতা ও জনগণের কল্যাণ।

প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও।

তিনি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই’, আটকে থাকলে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক ভালো হবে না, উন্নয়নের কাজ হবে না।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এ আশা ব্যক্ত করেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকের শুরুতে দীনেশ ত্রিবেদী বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানান।

একই সঙ্গে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন।মঈন খান বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিশেষ করে মুক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ ক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদারের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপড়েন তৈরি হয়, সেখান থেকে বেরিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নে বিএনপি সরকারকে ইতিবাচক বার্তা দেয় নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণর পর তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এছাড়া বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকসের আউট রিচ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে দিল্লিতে সাবেক প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সচিবালয়ে বৈঠক শেষে বেরিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা চাই পিপল টু পিপল রিলেশনশিপ; ওটা সব না থাকলে অন্য একই জিনিস। আপনাদের দিল্লিতে যে প্রতিনিধি আছেন, উনিও একই জিনিস চান যে, কীভাবে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক ভালো হয়। আলটিমেটলি কি হয়, আমরা যা ডিসিশন নিই, সেগুলোর প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের ওপর ভালোভাবে পড়ে, ওইটা আমাদের দায়িত্ব।”