পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ফিরিয়ে দিয়েছেন।
তেহরান আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য শর্ত হিসাবে ‘অতিরিক্ত ছাড়’ দাবি করেছিল, সেকারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ বলেন, কেবল আলোচনা শুরুর জন্যই ইরানি প্রতিনিধিরা বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আটকে থাকা শতকোটি ডলারের সম্পদ ফেরত দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেয়।
কিন্তু তেহরানের প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়ে ট্রাম্পের কোনও আস্থা নেই।
ইরানের এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে ওয়াল্টজ বলেন, “আমার মতে, এটি স্রেফ একটি চাল ছিল। তারা নিজেরাও জানত এসব শর্ত কোনোভাবেই মানা সম্ভব নয়। অথচ শুধু আলোচনার টেবিলে বসতেই তারা অবরোধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ বিপুল সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ চেয়ে বসেছে।”
প্রস্তাবটি নাকচ করার পর ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল, যুদ্ধক্ষেত্রে “শোচনীয় পরিস্থিতির” মুখে পড়েই ইরানি নেতারা এই চুক্তির পথ খুঁজছেন।
ওয়াল্টজ আরও উল্লেখ করেন, কয়েক মাস আগেই মধ্যস্থতার উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ায় এবার তেহরানের ওপর ট্রাম্পের ভরসা না থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে সংঘাতের সমাধান কোনও না কোনও সমঝোতার মাধ্যমেই হতে হবে এবং সে কারণে প্রেসিডেন্ট সব পথই খোলা রাখছেন।
জাতিসংঘে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির উত্থাপিত ওই প্রস্তাবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা, তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
প্রায় সাত মাস আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দফায় দফায় বিমান হামলার মধ্য দিয়ে যে সংঘাতের সূচনা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি এখন তার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এনবিসি-কে আরাকচি বলেন, ওয়াশিংটন যেসব অভিযোগ তুলছে তা ‘পুরোনো ও ভিত্তিহীন’।
